Posts

Showing posts from 2016

আরোগ্য সংগীত

Image
সংগীতের নিরাময় ক্ষমতা: ঐতিহ্য ও ইতিহাস মানুষ বহুকাল আগেই সংগীতের নিরাময় ক্ষমতা আবিষ্কার করেছিল। প্রাচীন গ্রিক ও মিশরীয় চিকিৎসকরা বাঁশি বা তারের বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে রোগীর চিকিৎসা করতেন। প্রাচীন ভারতে কণ্ঠধ্বনির পুনরাবৃত্তি বা ‘চ্যান্টিং’ রোগ নিরাময়ের একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হত। বাংলার ঐতিহ্যে সাপে কাটা রোগীর বিষ নামানোর সময় ওঝারা ঢাকের বাদ্য ও আদিরসাত্মক গান ব্যবহার করতেন। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সংগীত থেরাপি উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ফ্রান্স , আমেরিকা ও রাশিয়ায় সংগীতের নিরাময় ক্ষমতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু হয়। গবেষণায় দেখা যায় , সংগীত রক্তচাপ কমায় , হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায় , পালস-রেট কমায় এবং সাধারণভাবে দেহের ‘প্যারাসিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’-এর কার্যক্রমকে সহায়তা করে। অর্থাৎ , সংগীত শুধু বিনোদন নয় , এটি সুস্বাস্থ্য ও নিরাময়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক সংগীত থেরাপি বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মিউজিক থেরাপি নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে। সংগীত , যা একসময় শুধুমাত্র নিরাময়-কলা হিসেবে বিবেচিত হত , তা এখন নিরাময়-বিজ্ঞানে পরিণত হয়েছে। কেউ মনে করেন , শুধুমাত্র বাদ্যযন্ত্রের ...

চাঁদহীন পৃথিবী : এক সম্ভাব্য বিপর্যয়ের রূপকথা

Image
পৃথিবী চাঁদহীন নয়। তার একমাত্র উপগ্রহ কোথাও হারিয়ে যায়নি , কিংবা অদূর ভবিষ্যতে হারিয়ে যাবে — এমন কোনও আশঙ্কার কথাও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখনও উচ্চারণ করেননি। তবু এই ভাবনাটি আমাদের কল্পনায় ফিরে আসে — যদি কোনও একদিন মানুষ চাঁদের দখল নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে , এবং সেই সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়ে পারমাণবিক যুদ্ধে পরিণত হয়! তখন কি চাঁদও মানুষের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হতে পারে ? এই আশঙ্কা পুরোপুরি অমূলক নয়। চাঁদের বুকে রয়েছে হিলিয়াম–৩ নামের এক দুর্লভ জ্বালানি সম্পদের বিপুল ভান্ডার , যা ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন পারমাণবিক শক্তির সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচিত। যখন মানবসভ্যতা এই সম্পদ আহরণের প্রযুক্তিতে পারদর্শী হবে , এবং পৃথিবীর জ্বালানি ভান্ডার ক্রমশ নিঃশেষের দিকে এগোবে , তখন চাঁদকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা , এমনকী সংঘর্ষও অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। আর সেই যুদ্ধ , পৃথিবী থেকে অনেক দূরে সংঘটিত হওয়ার কারণে , নৈতিক দ্বিধা ছাড়াই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দিকেও গড়াতে পারে — এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না । ইতিহাসে এমন এক বিস্ময়কর পরিকল্পনার কথাও শোনা যায় — প্রথম পারমাণবিক বিস্ফোরণ নাকি চাঁদেই ঘটা...

স্বল্পদৈর্ঘ্য পথ — অ-ইউক্লিডীয় জ্যামিতির আলোকে

Image
কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়া গ্রামে সকাল বেলায় এক কৃষক মাঠে কাজ করছিল। একটি গাড়ি এসে ধান ক্ষেতের পাশে দাঁড়াল। এক ভদ্রলোক গাড়ি থেকে নেমে এসে কৃষককে জিজ্ঞেস করল — আচ্ছা , এখান থেকে সাঁইজীর আখড়া কত দূর ? কৃষক বলল — আপনার গাড়িটি যেদিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে সোজা চালিয়ে গেলে প্রায় ২৪ হাজার মাইল। আর যদি গাড়িটি ঘুরিয়ে নিয়ে ওই দিকে যান তাহলে মাত্র তিন মাইল। ভদ্রলোক একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল — তার মানে ? কৃষক বলল — আপনি যেদিকে যাচ্ছিলেন সেদিকে সোজা চলতে থাকলে একদিন ঠিকই গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন , কারণ পৃথিবী গোলাকার। কিন্তু আপনাকে পৃথিবীর পুরো ঘের (পরিধি) ঘুরে আসতে হবে। উল্লিখিত গল্পটির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে । তবে, সবচেয়ে কম দূরত্বের পথ কোনটি, তা জানতে চাওয়া সাধারণ জিজ্ঞাসার ব্যাপার । স্কুলে পড়া জ্যামিতি অনুসারে ক - বিন্দু ও খ - বিন্দুর মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্ব হল বিন্দু দু ' টির মধ্যে আঁকা একটি সরল রেখা । প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই জ্যামিতিক সিদ্ধান্তটি প্রণয়ন করেছিলেন গ্রীসের গণিতবিদ ইউক্লিড । ইউক্লিড - কে ক্লাসিক্যাল জ্যামিতির প্রতিষ্ঠাতা ...