Posts

শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ চেনার উপায়

Image
‘ শত জনমের অপূর্ণ সাধ লয়ে , আমি গগনে কাঁদি গো ভুবনের চাঁদ হয়ে’ — এভাবেই চাঁদকে দেখেছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। চাঁদের ষোলো কলা পূর্ণ হয় পূর্ণিমার রাতে , কিন্তু তাতে তার সাধ পূর্ণ হয় না । সাধের অপূর্ণতা চাঁদকে স্থির থাকতে দেয় না । তাই সে নিজেকে গড়ে , আবার ভাঙে — এই চক্রেই তার অস্তিত্ব । চাঁদের এই নিরবচ্ছিন্ন রূপান্তরের কারণে তাকে এক-এক সময়ে এক-এক রকম দেখায়। কখনও থালার মতো সম্পূর্ণ গোল , আবার কখনও কাস্তের মতো বাঁকা। বাঁকা চাঁদ দেখা যায় দুটি অবস্থায় — একটি কৃষ্ণপক্ষে , যখন চাঁদ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় , এবং অন্যটি শুক্লপক্ষে , যখন অমাবস্যার পর চাঁদ ক্রমশ পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়। তবে আকাশে বাঁকা চাঁদ দেখে সহজেই বোঝা যায় না যে এটি কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ নাকি শুক্লপক্ষের চাঁদ । শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ চেনার উপায় শুক্লপক্ষের ও কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ বিপরীত দিকে মুখ করে থাকে। উত্তর গোলার্ধে শুক্লপক্ষের বাঁকা চাঁদের উত্তল (কনভেক্স) দিক থাকে ডানদিকে , আর কৃষ্ণপক্ষে তা থাকে বাঁদিকে। কিন্তু চাঁদ কোন দিকে মুখ করে আছে সেটা কীভাবে নিশ্চিত করা যায় ? বিভিন্ন দেশে এটি চেনার জন্য সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় । ...

স্বপ্নলোকের চাবি

Image
স্বপ্নলোক — এমন এক জগত্‍ , বাস্তবের সীমা অতিক্রম করে হৃদয়ের অন্তরালেই যেন তার অবস্থান। সেখানে পৌঁছানো যায় না পায়ের পথ ধরে , বরং হৃদয়ের অদৃশ্য সেতু পেরিয়ে যেতে হয়। তবু আজ মনে হয় , সেই অন্তর্জগতের পথ যেন ক্রমে আবছা হয়ে যাচ্ছে — যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে সেখানে প্রবেশের গোপন চাবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর এক কবিতায় এই হারিয়ে যাওয়ার ব্যথাকেই ভাষা দিয়েছেন — ‘ স্বপন-পারের ডাক শুনেছি , জেগে তাই তো ভাবি — কেউ কখনো খুঁজে কী পায় স্বপ্নলোকের চাবি । নয় তো সেথায় যাবার তরে , নয় কিছু তো পাবার তরে , নাই কিছু তার দাবি — বিশ্ব হতে হারিয়ে গেছে স্বপ্নলোকের চাবি।’ এই পঙ্‌ক্তিগুলিতে এক অদ্ভুত দ্বৈততা কাজ করে — ডাক আছে , আকর্ষণ আছে , কিন্তু নেই পৌঁছানোর উপায়। যেন মানবজীবনেরই এক প্রতিচ্ছবি — আমরা জানি , কোথাও এক অপূর্ব জগৎ আছে , কিন্তু তার দরজা খুলে দেওয়ার চাবিটি যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে। তাই মানুষ অবিরাম খুঁজে বেড়ায় — কোথাও , কোনও এক অজানা আলোর ভুবনে লুকিয়ে আছে সেই রহস্যময় চাবি। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় — এই চাবি কি সত্যিই বাইরে কোথাও হারিয়েছে , নাকি আমাদের খোঁজার দিকটাই ভুল ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়...

নিশ্চন্দ্র জ্যোৎস্না

প্রতি বছরের জুন মাসের ২০ থেকে ২২ তারিখের মধ্যে কোনও এক দিনে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক হেলে পড়ে। এই দিনটি ‘সামার সলস্টিস’ বা উত্তরায়ণান্ত নামে পরিচিত — উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের সূচনার এক উজ্জ্বল দিগন্তচিহ্ন । এই সময়কে কেন্দ্র করে , কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে কয়েক সপ্তাহ পরে পর্যন্ত বিষুবরেখার উত্তরে আনুমানিক ৪৯ ° থেকে ৬৫.৫ ° অক্ষাংশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে সূর্যাস্ত হয় অনেক দেরিতে , সূর্যোদয় ঘটে খুব তাড়াতাড়ি ; ফলে রাত কখনও সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে না। সূর্য দিগন্তের নিচে ডুব দেয় ঠিকই , কিন্তু সেই অন্তর্ধান ক্ষণস্থায়ী — অল্প সময়ের মধ্যেই ভোরের আলো ফিরে আসে। তাই রাত্রি জুড়ে ছড়িয়ে থাকে এক মৃদু , স্বচ্ছ আলোকচ্ছটা — পূর্ণিমার মতো উজ্জ্বল , অথচ আরও কোমল ও রহস্যময়। এই ঘটনাই ‘শ্বেত রাত্রি’ নামে পরিচিত । আরও উত্তরে , প্রায় ৬৫.৫ ° থেকে ৬৭.৫ ° অক্ষাংশের মধ্যে , এই বিস্ময় আরও তীব্র হয়ে ওঠে। উত্তরায়ণান্তের সময়কে কেন্দ্র করে বহুদিন ধরে সূর্য আর সম্পূর্ণভাবে অস্ত যায় না ; দিগন্ত স্পর্শ করেই যেন ফিরে আসে। সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যে ঘ...

ব্লক ইউনিভার্স — এক ক্রিয়াকালহীন মহাবিশ্বের নাম

Image
কবি বলেছেন , ‘ কালস্রোতে ভেসে যায় জীবন ’ । সময় যেন এক নদী , যা নিরন্তর প্রবাহিত হয় ভবিষ্যৎ থেকে বর্তমান হয়ে অতীতের দিকে । আমাদের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতায় সময়ের এই গতিময়তা অত্যন্ত স্বাভাবিক মনে হলেও , পদার্থবিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে একমত নন । তাঁরা মনে করেন , সময় প্রবাহিত হওয়ার চেয়ে বরং একটি স্থায়ী কাঠামো । সময় গতিশীল হওয়ার ধারণায় সমস্যা কোথায় ? সময়কে যদি গতিশীল বলে ধরা হয় , তবে স্বভাবিক প্রশ্ন উঠবে: সময়ের গতি কত ? সময় যদি সত্যিই চলমান হয় , তাহলে তা মাপার জন্য আমাদের প্রয়োজন একটি ‘ প্রসঙ্গ সময় ’ বা রেফারেন্স টাইম । যেমন  নদীর গতি নির্ধারিত হয় তার দুই তীরের সাপেক্ষে । কিন্তু সময়ের ক্ষেত্রে এমন কোনও তীর নেই । সুতরাং , যদি সময় নিজের সাপেক্ষেই প্রবাহিত হয় , তবে এর গতি দাঁড়াবে সেকেন্ড/সেকেন্ড । অর্থাত্‍ , এক সেকেন্ডে সময় এক সেকেন্ড পথ অতিক্রম করছে , যা অর্থহীন । এছাড়া , মহাবিশ্বের বাইরে এমন কোনও ঘড়ি বা মানদন্ড নেই যার সাহায্যে সময়ের চলমানতাকে যৌক্তিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। ফলে , বিজ্ঞানীরা মনে করেন , সময় গতিশীল নয় ; বরং একটি স্থির কাঠামোতে অবস্থিত , যেখানে ঘটনাসমূহ স্থায়ীভাব...

অমৃতের অন্বেষা ও আধ্যাত্মিক অমরতা

মানুষ চিরকালই অমরত্বের সন্ধানে মগ্ন থেকেছে। কিন্তু সেই অমৃতরস , যা পান করে মানুষ অমর হতে পারে , তা কি আদৌ কোথাও পাওয়া গেছে ? প্রকৃতপক্ষে , মানুষের অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা তার অস্তিত্বের স্ববিরোধী বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন । মানুষের টিকে থাকা ও অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা পৃথিবীতে মানুষের টিকে থাকার কথা ছিল না বললেই চলে। জন্মের সময় মানুষ অসহায় শিশু ; পিতা-মাতার স্নেহ-সুরক্ষা ছাড়া তার বাঁচা সম্ভব নয়। পশুদের মতো মানুষের দেহে নেই শক্ত বহিরাবরণ , পশম বা আঁশ , যা তাকে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করতে পারে। পূর্ণবয়স্ক মানুষও বাঘ বা সিংহের মতো দ্রুতগতিতে দৌড়াতে পারে না , তার দাঁত-নখও যথেষ্ট প্রতিরক্ষামূলক নয়। তবু মানুষ টিকে গেছে এবং বিকশিত হয়েছে তার বুদ্ধিমত্তার জন্য । মানুষের বুদ্ধিমত্তার জোরেই অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিয়েছে। তবে বিজ্ঞান দেখিয়েছে , এ আকাঙ্ক্ষা কেবল কল্পনারই রূপ। ফিলাডেলফিয়ার বিজ্ঞানী লেওনার্দ হেইফ্লিক প্রমাণ করেছেন যে মানুষের দেহকোষ সীমিত সংখ্যকবার বিভাজিত হতে পারে—এই সীমাকে বলা হয় ‘ হেইফ্লিক লিমিট’ । একসময় কোষ বিভাজন থেমে যায় এবং কোষ মারা যায়। অথচ যদি কোষ এই সীমা অতিক্রম করে বিভাজন ...