Posts

বজ্রমানিক দিয়ে গাঁথা

বর্ষা হল সেই ঋতু , যখন আকাশ থেকে নেমে আসে প্রশান্তির বারিধারা। গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহের পর বর্ষার আগমন প্রকৃতিকে নতুন করে সঞ্জীবিত করে , শুষ্ক ধরায় আনে প্রাণের সজীবতা। তবে বর্ষা শুধু বৃষ্টির ঋতুই নয় , এটি বজ্রবিদ্যুতেরও ঋতু। বৃষ্টি যেমন পৃথিবীকে জলসিক্ত করে , তেমনই বজ্রপাত যোগায় উর্বরতার পুষ্টি। কীভাবে বজ্রপাত পৃথিবীর উর্বরতা বৃদ্ধি করে , তা এক বিস্ময়কর প্রক্রিয়া। আমাদের শরীরের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান হল প্রোটিন , যা তৈরি হয় নাইট্রোজেন থেকে। আমরা যে বাতাসে শ্বাস নেই , তার প্রায় ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন এবং ২০ শতাংশ অক্সিজেন। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ নাইট্রোজেন সত্ত্বেও প্রাণী ও উদ্ভিদ সরাসরি এটি গ্রহণ করতে পারে না , কারণ নাইট্রোজেন অণু ( N ₂ ) অত্যন্ত শক্তিশালী বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। এই বন্ধন ভেঙে নাইট্রোজেনকে গ্রহণযোগ্য করার কাজটি করে আষাঢ়ের বজ্রবিদ্যুৎ। মানুষ বা অন্য কোনও প্রাণীর পক্ষে নাইট্রোজেন অণুর সেই শক্তিশালী বন্ধন ভাঙা সম্ভব নয়। কিন্তু বজ্রপাতের বিশাল শক্তি এটি সম্ভব করে তোলে। যখন মেঘে মেঘে ঘর্ষণের ফলে বজ্রপাত হয় , তখন যে তীব্র বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় , তা শিলাকে বিদীর্ণ করতে পারে , এমনকি নাইট...

ঈশ্বর, প্রকৃতি ও রবীন্দ্রনাথ

ঈশ্বরের অবস্থান নিয়ে দু ’ টি ভুল ধারণা রয়েছে । প্রথমত , ঈশ্বর ‘সুদূর আকাশে’ অবস্থান করেন — একটি বড় ভুল । দ্বিতীয়ত , তিনি ‘আমার মধ্যে’ বিরাজমান — যদিও ছোট ভুল , তবুও বিভ্রান্তিকর । ঈশ্বর আকাশে অবস্থান করেন এই ধারণা প্রধানত একেশ্বরবাদী ধর্মে প্রচলিত । সেখানে ঈশ্বরকে ব্যক্তি রূপে কল্পনা করা হয় , যেমন শাসক , বিচারক বা প্রতিনিধি প্রেরণকর্তা । এই ব্যক্তি-ঈশ্বর মানুষের বিবাদে পক্ষপাতপূর্ণ হন বলে দাবি করা হয় , এবং তাঁকে পক্ষে দেখিয়ে নিজেদের অবস্থানকে ন্যায্যতা দেওয়া হয় । এভাবে ন্যায়হীন কাজও বৈধতা পায় । ঈশ্বর আকাশে থাকেন , ধারণাটির অন্তর্নিহিত অর্থ হল ঈশ্বর ও মানুষ আলাদা এবং পৃথক সত্তা । এটি এক গভীর ভুল ধারণা , যা আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত বোধকে ক্ষুণ্ণ করে । বাস্তবতা হল , সৃষ্টিজগতের সবকিছুই ঈশ্বরের অংশ । তন্ত্র মতে , ‘যাহা আছে দেহভান্ডে , তাহাই আছে ব্রহ্মান্ডে’ — অর্থাত্‍ মানুষ এবং মহাজগত্‍ একই উপাদানে নির্মিত । তাই ঈশ্বর কোনও দূরবর্তী সত্তা নন ; সমগ্র সৃষ্টিতে তিনি অন্তর্ভুক্ত । ঈশ্বর আমার মধ্যে আছেন এ ধারণা আংশিক সঠিক। মানুষ ঈশ্বরের অংশ বলেই নিজেকে আত্মস্থ করার মধ্যে ঈশ্ব...

শূন্য করিয়া রাখ তোর বাঁশি

Image
বাঁশের বাঁশি বাঁশি কেবল বাঁশেরই হয় , কাঠের নয়। বাঁশি হতে হলে তার অভ্যন্তর ফাঁকা থাকতে হয় , থাকতে হয় ছিদ্র , যেখান দিয়ে সুরের প্রবাহ ঘটে। ছিদ্রবিহীন বাঁশি কখনওই প্রকৃত বাঁশি নয় ; এটি মূলত ফুঁ দিয়ে বাজানোর যন্ত্র । একটি বাঁশিতে থাকে ছয়টি ছিদ্র , যা মানুষের দুই চোখ , দুই কান এবং দুই নাসার প্রতিরূপ। এ ছাড়াও থাকে একটি বড় ছিদ্র , যা প্রতীকীভাবে মুখের মতো। এই মুখ ছিদ্রটি কম্পমান ঠোঁটের স্পর্শে স্পন্দিত হয়। তাই বাঁশিকে মানুষের প্রতীক হিসেবেও কল্পনা করা হয় । বাঁশি ও ঈশ্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইংরেজি গীতাঞ্জলি - তে তাঁর আধ্যাত্মিক যাত্রা বাঁশির প্রতীকী কল্পনা দিয়ে শুরু হয়। ঈশ্বর এখানে এক বাঁশিবাদক , আর কবি নিজেকে কল্পনা করেছেন তাঁর হাতে ধরা এক বাঁশি হিসেবে । ‘You have made me endless; such is Your pleasure. This frail vessel You empty again and again, and fill it ever with fresh life. This little flute of a reed You have carried over hills and dales and have breathed through it melodies eternally new.’ বাংলায় কবির কণ্ঠে — ‘ আমারে তুমি অশেষ করেছ , এমনি লীলা তব – ফুরা...

রঙের সৌন্দর্য ও মানবজীবন

Image
দৃষ্টিক্ষম মানুষের জন্য ঈশ্বরের অন্যতম অনুপম উপহার হলো রং। জল , স্থল ও আকাশ — সর্বত্র রঙের অপার মহিমা ছড়িয়ে আছে। আমাদের চারপাশের দৃশ্যমান জগৎ মূলত রঙের বৈচিত্র্যে সজ্জিত। রং সৌন্দর্যের অপরিহার্য অঙ্গ ; রংহীনতা যেন এক অচেনা জগতের প্রতিচ্ছবি । প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির রঙিন আবেষ্টনীর মধ্যে বেড়ে উঠছে। ফলে মানুষের জীবনে রঙের প্রভাব অপরিসীম। রং এক প্রকার শক্তি , যা দেহ , মন ও আবেগকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। যেমন , লাল রং রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং হৃদস্পন্দন দ্রুততর করে , অন্যদিকে নীল রং মনকে প্রশান্ত করে ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পাশ্চাত্যের অনেক দেশে ‘কালার থেরাপি’ বা রঙের মাধ্যমে চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য । রঙের মাধ্যমে মানুষ তার আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। অনেক সময় যা শব্দে প্রকাশ করা কঠিন , তা রংয়ের মাধ্যমে সহজেই বোঝানো যায়। চিত্রশিল্পীরা তাঁদের শিল্পকর্মে এই রঙের ভাষা ব্যবহার করেন , যা এক গভীর রহস্যময় যোগাযোগের মাধ্যম । রংকে ‘নন-ভার্বাল কমিউনিকেশন’-এর অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তবে , রঙের নিজস্ব কোনও অর্থ নেই ; মানুষের আরোপিত অর্থই এর প্রক...

সরস্বতী ভাবনা

Image
নদীকে কেন্দ্র করেই মানবসভ্যতার আদিযাত্রা। জলধারার কোল ঘেঁষেই জন্ম নিয়েছে চিন্তা , সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার প্রথম আলো। নদী মানে কেবল জল নয় — নদী মানে সময়ের দৃশ্যমান রূপ । যা বয়ে চলে , যা থামে না , অথচ কোনও মুহূর্তেই নিজেকে ধরে রাখে না। মানুষের প্রথম দর্শনবোধ নদীর ধারে দাঁড়িয়েই জন্মেছিল। জলকে দেখে সে বুঝেছিল — স্থিতি একটি ভ্রান্তি , আর প্রবাহই সত্য। এমনই এক মহিমাময় নদীর নাম সরস্বতী। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয়-চতুর্থ সহস্রাব্দে উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে প্রবাহিত ছিল এই বিশাল নদী। তার তীরে গড়ে উঠেছিল তপোবন — লতাপাতার ছায়ায় , নৈঃশব্দ্যের গভীরে। সেখানে ঋষিরা শব্দ খুঁজতেন শব্দের অতীতকে প্রকাশ করার জন্য। রচিত হচ্ছিল বেদ — মহাজাগতিক ভাবরসে সিঞ্চিত মন্ত্রগাথা। কিন্তু তা ছিল কেবল পাঠ্য নয় — তা ছিল শোনার অনুশীলন। কারণ জ্ঞান তখন লেখা নয় , শ্রুতি। নদীর কলধ্বনির সঙ্গে মিশে যেত মন্ত্রের স্বর। প্রকৃতি আর চেতনা তখন আলাদা ছিল না । ‘ সরস্বতী’ শব্দের অর্থ — যিনি সতত রসে সমৃদ্ধা। তিনি প্রথমে নদী ছিলেন। স্বর্গ থেকে নামা কোনও দেবী নন — এই মাটিরই সন্তান। মানুষ যখন উপলব্ধি করল যে জল কেবল তৃষ্ণা মেটায় ন...

সূর্য উপাসনা

Image
মানবসভ্যতার প্রারম্ভে মানুষ সূর্যের উপাসনা করত। এটি পৃথিবীর প্রায় সব আদিম ও প্রাচীন সভ্যতায় প্রচলিত ছিল। সে যুগে সূর্য উপাসনা ছিল জ্ঞান ও সত্যে পরিপূর্ণ এক উন্নত মানসিকতার প্রতীক। সূর্য সমগ্র জীবনের উৎস। সূর্যের কারণেই উদ্ভিদ টিকে আছে , আর উদ্ভিদের কারণেই প্রাণিজগৎ। সূর্যের আলো ও তাপে শস্য পরিপুষ্ট হয় , এবং সেই শস্য থেকে আমরা জীবনের শক্তি সংগ্রহ করি। সূর্য সমস্ত শক্তির মূল। সূর্য নিভে গেলে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। এই কারণেই প্রাচীন মানুষ সূর্যকে ঐশ্বরিক ক্ষমতাসম্পন্ন মনে করত এবং ভক্তিভরে তার কাছে প্রণত হত। সূর্য আমাদের সৌরমণ্ডলের কেন্দ্রবিন্দু এবং আমাদের জীবনের প্রধান আশীর্বাদ। সূর্য আমাদের দেবতা। তিনিই একমাত্র দেবতা যাকে আমরা সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে পারি। এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমাদের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে। আমরা দেখি , জীবনের জন্য যা প্রয়োজন , সূর্য তার সবকিছুই আমাদের প্রদান করে — উত্তাপ , আলো , খাদ্য , ফুল এবং এমনকী ঝিলের জলে মোহন প্রতিবিম্ব। তাই মানুষের পক্ষে সূর্যের প্রতি ভক্তি , ভালবাসা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা স্বাভাবিক। সূর্যের উপাসনা মানুষের সহজাত প্রতিক্রিয়া। ...

অমাবস্যা ও পূর্ণিমা — চন্দ্রসূর্যের মিলন ও বিরহ তিথি

Image
অমাবস্যা হল কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি , যখন চাঁদ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। মনে হতে পারে , চাঁদ যেন হারিয়ে গেছে , কিন্তু আসলে সে সূর্যের তীব্র আলোয় আড়াল হয়ে থাকে। সূর্যের আলোর বিপুলতা চাঁদের উপস্থিতিকে মুছে দেয় , ফলে আমরা তাকে দেখতে পাই না । অমাবস্যার দিনে সূর্য ও চাঁদ একইসঙ্গে উদিত হয় এবং অস্ত যায়। তারা সারাদিন পাশাপাশি থেকে আকাশে পরিভ্রমণ করলেও সূর্যের উজ্জ্বল দীপ্তিতে চাঁদ অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে। রাতেও তাদের অবস্থান কাছাকাছি থাকে , তবে তখনও চাঁদের গায়ে সূর্যের আলো পড়লেও তা আমাদের চোখে ধরা দেয় না , কারণ তখন তারা দুজনেই দিগন্তের ওপারে অস্ত যায় । এই দিনে সূর্য , চাঁদ ও পৃথিবী একই সরল রেখায় অবস্থান করে , যেখানে চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে। এটি এক মহাজাগতিক সংযোগ , যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘সিজিজি’ ( syzygy) বা ‘ কক্ষপথের যুগল ’ নামে পরিচিত। এসময় চাঁদ ও সূর্য যেন পরস্পরের সান্নিধ্যে আবদ্ধ হয়ে থাকে , এক অদ্ভুত মহাজাগতিক সামঞ্জস্যে । এটি এক মহাজাগতিক প্রেমের রূপক , যেখানে সূর্য তার কিরণ চাঁদের ওপর বর্ষণ করে , আর চাঁদ সেই আলো প্রতিফলিত করে সূর্যের প্রতি তার নিবেদন জানায়। বাংলা ভাষায় অ...

অন্ধকার ও ইন্দ্রিয় অনুভূতি

মানুষ তার চারপাশের জগৎ সম্পর্কে জানতে পারে কিছু নির্দিষ্ট দেহযন্ত্রের মাধ্যমে , যেগুলোর নাম ইন্দ্রিয়। মানুষের শরীরে পাঁচটি ইন্দ্রিয় রয়েছে: চক্ষু (দর্শনেন্দ্রিয়) , ত্বক (স্পর্শেন্দ্রিয়) , কর্ণ (শ্রবণেন্দ্রিয়) , জিহ্বা (রসনেন্দ্রিয়) ও নাসা (ঘ্রাণেন্দ্রিয়)। এই পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের প্রধান কাজ আমাদের দেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করা । পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মধ্যে দর্শনেন্দ্রিয় সবচেয়ে শক্তিশালী , আর সবচেয়ে দুর্বল সম্ভবত ঘ্রাণেন্দ্রিয়। তবে , ইন্দ্রিয়গুলো একে অপরের পরিপূরক। যখন একটি ইন্দ্রিয় দুর্বল হয়ে পড়ে , তখন অন্য ইন্দ্রিয়গুলো আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। এজন্যই দৃষ্টিশক্তিহীন মানুষের অন্যান্য ইন্দ্রিয় তুলনামূলকভাবে অধিক সংবেদনশীল হয়ে ওঠে । রাতের অন্ধকারে যখন আমাদের দর্শনেন্দ্রিয় নিষ্ক্রিয় বা সীমিত হয়ে পড়ে , তখন অন্যান্য ইন্দ্রিয় , বিশেষত শ্রবণ , স্পর্শ ও ঘ্রাণেন্দ্রিয় আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। নৈঃশব্দ্যের মধ্যে ছোট ছোট শব্দ আরও স্পষ্টভাবে শোনা যায় , ফলে রাতের বেলায় প্রকৃতির শব্দময়তা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে । রাত্রিকালীন পরিবেশ আমাদের রসনেন্দ্রিয় ও ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের সংবেদনশীলতা ...

তারার আলো ও হৃদয়ের আবেগ

মহাবিশ্বের দুটি অনন্য সৌন্দর্য — তারায় ভরা রাতের আকাশ ও ভালবাসায় ভরা মানুষের হৃদয়। আকাশের সঙ্গে মানুষের এই বন্ধন আদিমকাল থেকেই অটুট। সেই মুহূর্ত থেকে , যখন মানুষ প্রথমবার আকাশের দিকে তাকিয়েছিল , নক্ষত্রেরা তাকে মুগ্ধ করেছে , স্বপ্ন দেখিয়েছে । একসময় , বৈদ্যুতিক আলো কিংবা বিনোদনের আধুনিক মাধ্যমের আগে , মানুষের প্রধান রাত্রিকালীন আনন্দ ছিল আকাশ দেখা। তারা মৃত্তিকায় শুয়ে বিস্মিত নয়নে উপভোগ করত অসীম নক্ষত্ররাজির সৌন্দর্য। রাতের আকাশ ছিল এক রহস্য , যা মানুষকে ভাবতে শেখাত , কল্পনায় ভাসাত। নক্ষত্রের নীরব ভাষা হৃদয়কে সম্মোহিত করত , প্রশান্তি এনে দিত অন্তরে । কিন্তু আজ সেই সম্পর্ক ক্ষীণ হয়ে এসেছে। সভ্যতার কৃত্রিম আলো নক্ষত্রের শুদ্ধ দীপ্তিকে ম্লান করে দিয়েছে। রাতের আকাশ এখনও প্রতীক্ষায় থাকে , কিন্তু মানুষের দৃষ্টি আটকে থাকে নগরীর আলোর জালে । তবু , যদি কোনও এক রাতে কেউ তারাদের আহ্বান শোনে , বিস্মিত চোখে আকাশের দিকে তাকায় , তবে অনুভব করবে এক অনির্বচনীয় সৌন্দর্য। তারার আলো ধীরে ধীরে হৃদয়কে ভরিয়ে দেবে প্রশান্তিতে , সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় আবিষ্ট করবে মন। তখন , গভীরভাবে কোনও এক নক্ষত্রের দিকে...